সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দিদের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জামিনপ্রাপ্তদের বের হওয়ার সুযোগে অন্যান্য বন্দিরা বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ছোড়েন কারারক্ষীরা। পরে খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজনৈতিক মামলার সব আসামিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কারণে বন্দিদের স্বজনরা সকাল থেকেই কারাগারের সামনে ভিড় করেন। বিকেল ৪টার দিকে রাজনৈতিক ও সম্প্রতিক কোটা আন্দোলনে গ্রেফতার ২৩ জনকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে কারা কর্তৃপক্ষ স্বজনদের জানান। কিন্তু এসময় অন্য বন্দিরা জোরপূবর্ক বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারারক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দে কারাগারের ভেতর ও বাইরে বন্দিদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে সেনা সদস্যরা দ্রুত কারাগারে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
উল্লাপাড়া উপজেলার অলিদহ গ্রামের জামিনপ্রাপ্ত এক আসামির স্বজন আব্দুল মোতালেব। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় আজ আমার এক আত্মীয়ের মুক্তি দেওয়ার কথা। এজন্য কারাগারে এসেছি। তবে কারাগারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ভেতরে হঠাৎ একটানা ২০ মিনিট গোলাগুলির শব্দ হয়।’
জেল সুপার এএসএম কামরুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের আদেশে গতকাল ১৫১ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ২৩ জনকে মুক্তি দেওয়ার কথা। তাদের মুক্তি দেওয়ার সময় জামিনপ্রাপ্তদের সঙ্গে কারাবন্দিরাও বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কিছুক্ষণ ফাঁকা গুলি করা হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের কারাগারের ভেতরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আজকের জামিনপ্রাপ্তদের আগামীকাল মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, জামিনপ্রাপ্তদের মুক্তির খবরে সাজাপ্রাপ্ত হাজতিরাও সংঘবদ্ধভাবে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় কারারক্ষীরা সেটা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
